
আপনি কি বেকার? বাড়িতে বসে শুধু দুশ্চিন্তা করছেন? আপনি কি লাভজনক ব্যবসার কোন প্লান বা আইডিয়া খুঁজছেন? তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আশাকরি আপনার জন্য খুব উপকারে আসবে। আমরা এখানে আপনাকে এমন কিছু ব্যবসার আইডিয়া দিব যেটা খুব অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এবং এবং খুব লাভজনক। জনবহুল এই বাংলাদেশে দিন দিন বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। এবং চাকরি পেলেও ঠিকমতো এবং সঠিক অনুপাতে বেতন পাওয়া সম্ভব নয়। তাই এই চাকরি নামক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আপনাকে অবশ্যই ব্যবসা বেছে নিতে হবে। শুধুমাত্র ব্যবসা করেই আপনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন।
লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া
ব্যবসা একটি মুক্ত পেশা। যে কেউ ইচ্ছা করলে খুব অল্প পুজিতে ব্যবসা শুরু করতে পারে এবং সেখান থেকে খুব ভালো মাপের একটি লাভ নিয়ে আসতে পারে। কিন্তু এই সময়ে সব ধরনের ব্যবসা করে লাভবান হওয়া খুব বেশি সহজ নয়। তাই এমন কিছু ব্যবসা বেছে নিতে হবে যাতে খুব অল্প পুঁজিতে লাভবান হওয়া যায়। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক এরকম জনপ্রিয় এবং লাভবান কিছু ব্যবসার আইডিয়া।
ইউটিউব থেকে টাকা ইনকামের পদ্ধতি । ইউটিউব থেকে আয়-

ফেসবুক এবং ইউটিউব এর কথা কে না শুনেছে? আমরা অনেকেই ফেসবুক এবং ইউটিউব এ অনেক ধরনের ভিডিও দেখে সময় কাটাই। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন এই প্লাটফর্ম গুলোতে যারা ভিডিও বানাচ্ছেন তাদের লাভ কি, এবং প্ল্যাটফর্মগুলোর কি লাভ?
প্রকৃতপক্ষে ইউটিউব এবং ফেসবুক এ রাখা ভিডিওগুলো থেকে আয় হয়। এই আয়ের একটি অংশ যায় ফেসবুক অথবা ইউটিউব কর্তৃপক্ষের কাছে আরেকটি অংশ যায় ভিডিও নির্মাতার কাছে। তাই অন্যদের মত আপনিও এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ইউটিউব এবং ফেসবুক থেকে আয় করতে পারেন। বর্তমানে এই কাজটি খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং ছোট-বড় সবাই এই কাজে ঝুঁকে পড়ছে। এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে আমি কোন বিষয় নিয়ে ভিডিও নির্মাণ করবো ? আপনার সুবিধার্থে কি কি বিষয় নিয়ে আপনি ভিডিও তৈরি করতে পারেন তার কয়েকটি আইডিয়া দেয়া হল। যেমন রান্নার টিউটোরিয়াল, বিভিন্ন মন্দির মসজিদ বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ভিডিও, ট্রাভেলিং নিয়ে ভিডিও, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে ভিডিও, ফুড ব্লগিং ইত্যাদি।
কনটেন্ট রাইটিং করে আয়-

অনলাইনে অর্থ উপার্জনের মধ্যে কনটেন্ট রাইটিং একটি অন্যতম উপায়। আপনি যে আর্টিকেলটি পড়ছেন সেটিও একজন লেখক দ্বারা লেখা। এবং তা থেকে তিনি কোন না কোনোভাবে আয় করছেন। কিছু জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেখানে কনটেন্ট রাইটারদের বেশ চাহিদা রয়েছে ,যেমন ফাইবার, আপওয়ার্ক, পিপল পার আওয়ার। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেও কনটেন্ট রাইটিং এর কাজ পাওয়া যায় যেমন ফেসবুক এর বিভিন্ন গ্রুপ থেকে ইচ্ছা করলেই আপনি কন্টেন্ট রাইটিং এর কাজ করতে পারবেন। তবে কন্টেন্ট রাইটিং আপনার সঠিক নিয়ম মেনে করতে হবে। কনটেন্ট রাইটিং এর সঠিক নিয়ম জেনে আপনি আপনার নিজের ওয়েবসাইটে কাজ করতে পারবেন এবং সেখান থেকে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আপনি একটি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন অথবা কোন কোম্পানির স্পন্সরশিপ নিয়েও আপনি বেশ লাভবান হতে পারবেন।
ওয়েবসাইট বিক্রয় করে আয়-

খুব অল্প পুঁজিতে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় এবং সেটি বিক্রয় করে বেশ লাভবান হওয়া যায়। এই ওয়েবসাইট ক্রয়-বিক্রয় করে অনেকেই বেশ ভাল অঙ্কের টাকা কামাচ্ছেন।
আপনি যদি ব্লগার সাইট কাস্টমাইজেশন অথবা ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজেশন জানেন তাহলে আপনিও ওয়েবসাইট তৈরি করে টাকা উপার্জন করতে পারবেন। আপনার ওয়েবসাইটটি অবশ্যই মনিটাইজেশন করতে হবে। এজন্য আপনি বিভিন্ন অ্যাড নেটওয়ার্কের সাহায্য নিতে পারেন অথবা আপনি অ্যাফিলিয়েট পার্টনারশিপ ও করতে পারেন । আপনার ওয়েবসাইটটি যখন জনপ্রিয় হবে এবং একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ট্রাফিক ঢুকবে তখন আপনি আপনার ওয়েবসাইটটি বিক্রি করে দিতে পারেন। অনলাইনে ওয়েবসাইট বিক্রি করার জন্য অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে,অথবা আপনি ফেসবুক এর বিভিন্ন গ্রুপে যারা ওয়েবসাইট কেনাবেচা করে তাদের সাথেও যোগাযোগ করতে পারেন।
অনলাইনে শিক্ষকতা করে ইনকাম-

অনলাইন শিক্ষা এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অল্প সময়ে ঘরে বসে অর্থ উপার্জনের একটি অন্যতম উপায় এটি। সাম্প্রতিক সময়ে অনেকে অনলাইনে শিক্ষকতা করে বা অনলাইনে কোর্স করিয়ে আয় করছেন। বিশেষ করে করোনার সময় যখন একজন আরেকজনের কাছ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল তখন অনলাইনে শিক্ষকতা একটি অনন্য অবদান রেখেছে এবং এটি করে তখন বেশ ভালো লাভবানও হয়েছে অনেকে। তবে সেই ধারাবাহিকতা এখনো বজায় রয়েছে। এই মুহূর্তে আমরা প্রায় সবাই অনলাইনের উপর নির্ভরশীল। আপনি যদি অনলাইন শিক্ষকতায় নিজেকে যুক্ত করেন তাহলে অনেক শিক্ষার্থী পাবেন যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আপনার সাথে যুক্ত হবে। এবং অনলাইনে শিক্ষকতা করে বা কোর্স করিয়ে আপনি একটি ভালো উপার্জন করতে পারবেন। এই পেশার সাথে যুক্ত হয়ে আজ অনেকেই বেশ লাভবান হয়েছে যেমন 10 মিনিট স্কুল।
অর্গানিক ফুড এর ব্যবসা । Organic Food Shop |Organic Food Business-

বর্তমান প্রতারণার যুগে ভেজালমুক্ত এবং ফ্রেশ খাবার পাওয়া খুব কঠিন। আবার অনেকে আমরা জেনে শুনে ভেজাল খাবার খাচ্ছি কারণ তার দাম কম। তবে সবাই তো আর পণ্যের দামের দিকে নজর দেয় না বা ভেজাল খাবারের দিকে নজর দেয় না, কেউ কেউ তো দাম একটু বেশি হলেও অর্গানিক খাবারও খেতে চায়,কারণ তারা স্বাস্থ্য সচেতন। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আপনি একটি অর্গানিক ফুড এর সাপ্লায়ার হিসেবে কাজ করতে পারেন। স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই আপনি একটি অর্গানিক ফুডের দোকান দিতে পারেন। এবং অবশ্যই নিশ্চিত করা যায় যে এই অর্গানিক ফুড এর দোকানটি সারাবছরই মসৃণভাবে চলবে কারণ সারা বছরই অর্গানিক ফুড এর চাহিদা মোটামুটিভাবে ভালই থাকে। এই অর্গানিক খাবারের দোকানটি আপনার বেকারত্ব দূরীকরণের পাশাপাশি লাভজনক ব্যবসার আইডিয়ায় পরিণত হতে পারে। আপনি এই ব্যবসাটি অনলাইনে অথবা অফলাইনে দুভাবেই করতে পারেন।
কফি শপ ব্যবসা-

বর্তমান যুগে কফি এবং ফাস্টফুড প্রেমীদের অভাব নেই। আমরা অনেক সময় পরিবার-পরিজন বন্ধু-বান্ধব সহ একটু বাইরে গিয়ে বা কোন রেস্টুরেন্টে বসে ভালো সময় কাটাতে চাই এবং সে সময় আমাদের সামনে থাকতে পারে কফি বা ফাস্টফুড আইটেম। অনেক সময় আবার অফিসের বাড়তি কাজের চাপে একটু প্রশান্তির আশায় একটি কফি শপে বসে নিরিবিলি এক কাপ কফিতে চুমুক দিতে চাই। তাই কফি শপের বিজনেস আইডিয়াটি আপনার জন্য হতে পারে ব্যাপক লাভজনক। এতে পুঁজিও লাগে অল্প। যেহেতু তরুণ-তরুণীরা সবাই কপি পছন্দ করে সেহেতু এই ব্যবসা খুব মসৃণভাবে বছরব্যাপী চলবে। আপনি কফির পাশাপাশি অন্য ফুড আইটেম বা অন্য ফাস্টফুড আইটেম ও রাখতে পারেন ,এতে বৈচিত্রতা বাড়বে। এবং এই কফি শপের ব্যবসার আইডিয়াটি একজন বেকারের জীবন বদলে দিতে পারে।
টি-শার্ট এর ব্যবসা । T-shirt business-

খুব অল্প সময়ে খুব অল্প পুঁজিতে লাভবান হওয়ার একটি অন্যতম ব্যবসা হলো টি-শার্ট ব্যবসা। টি-শার্টের ব্যবসাটি দিন দিন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আজকাল টি-শার্ট বিভিন্নভাবে কাস্টমাইজ করে বিক্রি করা হয়। বিভিন্ন ট্রেন্ডের সাথে তাল মিলিয়ে চলতেই টি-শার্ট কাস্টমাইজ করা হয়। ছেলে থেকে বুড়ো সবাই টি-শার্ট কেনে এবং পরে। এই টি-শার্ট বিক্রি করার অনেক উপায় আছে ,আপনি বাজারে বসে একটি ছোটখাটো দোকান নিয়ে টি-শার্ট বিক্রি করতে পারেন। অথবা অনলাইনেও টি-শার্ট বিক্রি করতে পারেন।
শেষ কথা-
পৃথিবীতে মানুষের চাহিদা এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার জন্য ব্যবসার প্রচলন হয় । কিন্তু শুধু ব্যবসা করলেই তো হবে না ! আপনাকে খুঁজে নিতে হবে একটি সঠিক ব্যবসা যা আপনাকে অল্প দিনে অল্প পুঁজিতে খুব বেশি লাভবান করে তুলতে পারে। আপনাকে এমন একটি ব্যবসা খুঁজে নিতে হবে যে ব্যবসার পণ্যটির চাহিদা থাকে ১২ মাস।
যে ব্যবসা দিয়ে আপনি মানুষের সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না সে ব্যবসা টিকবে না। একটি সঠিক ব্যবসার আইডি আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে এবং এই কথা মাথায় রেখেই আজকের এই আর্টিকেল লেখা।